
স্টাফ রিপোর্টার
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে রহস্যজনকভাবে খুন হওয়া গৃহবধূ শাহিনুর আক্তার (২৫) হত্যা মামলার মূল আসামি মো. সুজন মিয়াকে (৩৭) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। শাহিনুর আক্তার সাতবিলা গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের মেয়ে ও ছলিমাবাদ গ্রামের মন্টু মিয়ার পুত্রবধু। হত্যাটি চাঞ্চল্যকর হওয়ায় তদন্তে নামে পিবিআই। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ঢাকার কামরাঙ্গীরচর এলাকায় বসবাসরত সুজনের শ্যালকের বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গত ১৮ই জুলাই রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাঞ্ছারামপুর পৌর এলাকার থানা কলোনি সংলগ্ন একটি বাসা থেকে পচা দুর্গন্ধ বের হলে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তালাবদ্ধ একটি কক্ষ থেকে শাহিনুর আক্তারের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে নিহতের পিতা মো. গিয়াস উদ্দিন বাদী হয়ে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এ্যাডিশনাল আইজিপি ( পিবিআই) মোস্তফা কামালের সার্বিক দিক নির্দেশনায় ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ সুপারের ( পিবিআই) নির্দেশে ছায়া তদন্ত শুরু করেন পিবিআই কর্মকর্তারা। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মামলার মূল অভিযুক্ত হিসেবে শনাক্ত করে দরি বাঞ্ছারামপুর এলাকার বাসিন্দা মো. সুজন মিয়াকে। তদন্ত থেকে জানা যায়, ‘৫ লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের জন্য গত ১৭ই জুলাই রাতে সুজনসহ আরো ৩ জন শাহিনুরের বাসায় যান। টাকা না দেওয়ায় শাহিনুরকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে এবং ঘরের দরজায় তালা দিয়ে সুজনসহ বাকীরা পালিয়ে পালিয়ে যায়। ঘটনার পরপরই আত্মগোপনে চলে যান সুজন। প্রথমে প্রেমিকা তানিয়াকে নিয়ে নরসিংদীর একটি পার্কে অবস্থান করেন এবং হোটেলে রাত্রি যাপন করেন। হোটেলে নিরাপদ মনে না করায় পরে নারায়ণগঞ্জ ও ভুলতা এলাকায় কয়েকদিন ঘোরাঘুরি করে রাস্তায় রাত্রি যাপন করেন। অবশেষে ২৬/০৭/২০২৫ তারিখ রাতে ঢাকার কামরাঙ্গীরচর থানাধীন চাঁদ মসজিদ বাগান বাড়ি রোডের ছোট শ্যালকের বাসায় আশ্রয় নেওয়া অবস্থায় সেখান থেকেই পিবিআই চৌকস টিম তাকে গ্রেপ্তার করে। সুজনকে গ্রেপ্তারের পর আদালতে হাজির করে রিমান্ড চাইলে আদালত ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ৫ দিনের পুলিশ রিমান্ডে থাকা অবস্থায় ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের মুখে ঘটনার দায় স্বীকার করেন সুজন। ৩০শে জুলাই আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও প্রদান করেন, যা বিজ্ঞ আদালত রেকর্ড করেন।
‘বাঞ্ছারামপুরে চাঞ্চল্যকর গৃহবধু হত্যার মূল আসামি সুজন গ্রেপ্তার হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে স্থানীয়দের মধ্যে । মামলাটির তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে। আসলে কি শুধু চাঁদাই মুল রহস্য, নাকি অন্য কিছু। তদন্তের নেতৃত্বে ছিলেন এসআই (নিঃ) মো. শাহাদাত হোসেন এবং তদারককারী কর্মকর্তা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পিবিআই পুলিশ সুপার শচীন চাকমা।