
বাঞ্ছারামপুর প্রতারণায় ১৩ লাখ টাকা ও ১১ ভরি স্বর্ণ আত্মসাৎ: শ্বশুরবাড়ির ৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তিন জন গ্রেফতার।
স্টাফ রিপোর্টার
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় প্রবাসীর কষ্টার্জিত প্রায় ১৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা ও ১১ ভরি স্বর্ণালংকার আত্মসাতের অভিযোগে স্ত্রীসহ শ্বশুরবাড়ির চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হয়েছে।পরে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার পুলিশ ৩িন জনকে গ্রেফতার করে কিন্তু প্রধান আসামি নাজমা বেগম পলাতক বলে জানান মডেল থানার পুলিশ।
মামলার বাদী গিয়াস উদ্দিন জানান, তার ছেলে কাতার প্রবাসী মাইন উদ্দিনের সঙ্গে ২০২২ সালে নাজমা আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের পরপরই মাইন উদ্দিন জীবিকার তাগিদে বিদেশে চলে যান। প্রবাসে থাকাকালে তিনি স্ত্রীর ভরণপোষণ ও ভবিষ্যতে জমি কেনার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন সময়ে স্ত্রীর ও শ্বশুর স্বপন মিয়ার ব্যাংক হিসাবে লাখ লাখ টাকা পাঠান।
তদন্তে জানা যায়, নাজমা আক্তার তার স্বামীকে না জানিয়ে ২০২৪ সালের ২০ নভেম্বর গোপনে তালাক প্রদান করেন। কিন্তু বিষয়টি গোপন রেখে পরবর্তীতে স্বামীর সঙ্গে দাম্পত্য সম্পর্ক বজায় রাখেন এবং তার কাছ থেকে টাকা ও স্বর্ণালংকার গ্রহণ করতে থাকেন।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দেশে ফিরে মাইন উদ্দিন তার স্ত্রীর জন্য প্রায় ৪ ভরি স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন উপহার নিয়ে আসেন পূর্বে বিয়ের সময় ৭ ভরি স্বর্ণ দিয়েছেন। পরে তিনি স্ত্রীর বাড়িতে গেলে নাজমা আক্তার ও তার পরিবারের সদস্যরা তালাকের বিষয়টি প্রকাশ করেন এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করে তালাকনামায় স্বাক্ষর নিতে বাধ্য করেন বলে অভিযোগ ওঠে। একই সঙ্গে তার প্রেরিত টাকা ও স্বর্ণ ফেরত চাইলে তারা অস্বীকৃতি জানান।
তদন্তে আরও উঠে আসে, নাজমা আক্তার ও তার বাবা স্বপন মিয়ার ব্যাংক হিসাবে প্রবাস থেকে পাঠানো মোট প্রায় ১১ লাখ ৬৪ হাজার টাকার লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া বিভিন্ন মাধ্যমে আরও অর্থ লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে। সব মিলিয়ে প্রায় ১৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
সিআইডির তদন্তে দেখা যায়, নাজমা আক্তার, জাহিদ মিয়া, স্বপন মিয়া ও ছালেখা বেগম পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ, চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে এই অর্থ ও স্বর্ণ আত্মসাৎ করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১০৯/৪২০/৪০৬/৩৮৬/৫০৬(২)৩৪ ধারার অপরাধের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।
তবে অভিযোগে উল্লেখিত ৩৪৭ ও ৩৮০ ধারার অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। একইসঙ্গে সাহিদা বেগম নামে আরেক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা মেলেনি বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।স্থানীয়ভাবে একাধিকবার আপোষ-মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও বিবাদীদের অসহযোগিতার কারণে তা ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে গত ২৩ মার্চ ২০২৫ তারিখে বাদী আদালতে মামলা দায়ের করেন।
বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ ইয়াছিন জানিয়েছেন, সাক্ষ্য-প্রমাণ, ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও পারিপার্শ্বিক তথ্য বিশ্লেষণ করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে এবং এ বিষয়ে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।