
কসবা হত্যাকাণ্ডে অপপ্রচার: সাংবাদিকসহ অন্যান্যদের জড়ানো কি আইনের লঙ্ঘন নয়?
স্টাফ রিপোর্টার
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার শিমরাইল গ্রামে এক নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দ্বীন ইসলাম নিহতের বাবা বাদী হয়ে কসবা থানায় ১৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৩০-৪০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। এটি একটি গুরুতর ফৌজদারি মামলা, যা বর্তমানে তদন্তাধীন।
কিন্তু দুঃখজনকভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে, একটি স্বার্থান্বেষী মহল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু অনলাইন/ছোট পত্রিকার মাধ্যমে দুইজন সাংবাদিক—যার মধ্যে একজন সম্পাদক এবং অপরজন একটি দৈনিক পত্রিকার কর্মরত সাংবাদিক—কে “ভুয়া সাংবাদিক” আখ্যা দিয়ে এই মামলার সঙ্গে জড়ানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
প্রথমত, মামলার এজাহারে যাদের নাম নেই, তাদের জড়ানো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
দ্বিতীয়ত, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা আইনের পরিপন্থী এবং এটি বিচার ব্যবস্থার প্রতি অবমাননা।
প্রযোজ্য আইনি ধারা:
বাংলাদেশ দণ্ডবিধি (Penal Code) ১৮৬০ এর ৪৯৯ ও ৫০০ ধারা (মানহানি)
কোনো ব্যক্তির সুনাম ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা তথ্য প্রচার করলে তা মানহানি হিসেবে গণ্য হবে এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮ এর ২৫ ধারা
মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর বা মানহানিকর তথ্য অনলাইনে প্রচার করা অপরাধ।
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮ এর ২৯ ধারা
অনলাইনে মানহানিকর তথ্য প্রকাশ করলে শাস্তির বিধান রয়েছে।
তৃতীয়ত, সাংবাদিকদের “ভুয়া” আখ্যা দেওয়া যদি প্রমাণ ছাড়া করা হয়, তাহলে সেটিও স্পষ্ট মানহানির শামিল।
চতুর্থত, এ ধরনের অপপ্রচার স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য হুমকি এবং সমাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে।
প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক, নির্দোষ সাংবাদিকদের হয়রানি বন্ধ করা হোক অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।