ফারুকের হুমকির মূখে নিরাপত্তাহীনতায় আছেন ছলিমাবাদের প্রবাসী মাসুদ রানার পরিবার
স্টাফ রিপোর্টার
বাঞ্ছারামপুর ছলিমাবাদে প্রবাসী মাসুদ রানা তার পুত্র-কন্যাসহ স্ত্রী নাছিমার জীবন ভিক্ষা চায় প্রশাসনের কাছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ছলিমাবাদ ইউনিয়ন এলাকায় সৌদি প্রবাসী মাসুদ রানার পরিবারকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যকর বিরাজ করছে । স্ত্রী নাছিমা আক্তার, ছোট পুত্র ও কন্যাসহ নিজের পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন বলে দাবি করেছেন প্রবাসী মাসুদ রানা। তিনি প্রশাসনের কাছে পরিবারটির জীবন রক্ষায় জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন সৌদি আরবে প্রবাস জীবন কাটিয়ে উপার্জিত অর্থ দিয়ে পরিবারকে স্বচ্ছল করার চেষ্টা করেন মাসুদ রানা। কিন্তু সেই সম্পদের প্রতি লোভের দৃষ্টি পড়ে নিকট আত্মীয় ফারুক মিয়ার। অভিযোগ রয়েছে, পরিকল্পিতভাবে নাছিমা আক্তারকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পাঠিয়ে দেওয়া হয় এবং পরে সুযোগ বুঝে ঘর থেকে প্রায় ১৪ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ ৫ লাখ টাকা নিয়ে যায় ফারুক।
এ ঘটনায় গত ৭ মে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানা এ একটি জিডি দায়ের করা হয়। পরে বিষয়টি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হলে অভিযুক্ত ফারুক বাড়িতে ফিরে এসে মামলা তুলে নিতে চাপ সৃষ্টি করে বলে অভিযোগ ওঠে। ভুক্তভোগী পরিবার দাবি করে, সংবাদ মুছে ফেলা ও মামলা প্রত্যাহারের জন্য নগদ ৩ লাখ টাকার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল।
নাছিমা আক্তার অভিযোগ করেন, ফারুক মিয়া ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে চুরি হওয়া স্বর্ণ ও টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে সময়ক্ষেপণ করছে। বর্তমানে তারা উল্টো পরিবারটিকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। এতে করে চরম আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের।
ভিডিও বার্তায় প্রবাসী মাসুদ রানা কান্নাজড়িত কণ্ঠে প্রশাসন ও এলাকাবাসীর কাছে তার স্ত্রী-সন্তানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে নাছিমা আক্তারও তার পরিবারের জীবন রক্ষায় দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এ বিষয়ে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ ইয়াছিন বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর গ্রহণ করা হয়েছে এবং তদন্ত কর্মকর্তা জুয়েল রানাকে মামলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, অভিযুক্ত ফারুক মিয়া মৌখিকভাবে সম্পদ ফেরত দেওয়ার কথা স্বীকার করলেও এখনো তা বুঝিয়ে দেয়নি। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনা হবে। পারিবারিক সূত্রে ঘোষণা করা হয় যে ফারুক মিয়াকে ধরিয়ে দিতে পারলে ২০০০০/- টাকা পুরস্কৃত করা হবে।